হিমুর মধ্যদুপুর – হুমায়ুন আহমেদ
Skip to content
Shahriar Alam Rakib Blogs Feature Image
Home » হিমুর মধ্যদুপুর – হুমায়ুন আহমেদ

হিমুর মধ্যদুপুর – হুমায়ুন আহমেদ

হিমুর মধ্যদুপুর
– হুমায়ুন আহমেদ

প্রথমেই বলতে চাই, এত বড় একজন লেখক এবং মানুষ এর বই এর রিভিউ লিখার আসলে কোন মানেই হয়না তাছাড়া আমি এমন কিই বা বই বিশারদ?

কিন্তু এই লিখাটা সাহায্য করবে তাদের … যারা আসলে ঠিক ততটা তার ভক্ত নন… কিংবা তার জীবনের ব্যক্তিগত ব্যাপার সামনে এনে তাকে ছোট করতে চান অথবা তার বই পড়বেন কিংবা পড়বেন না এটা ভাবতে ভাবতেই পড়ছেন না …

প্রথমেই বলে রাখতে চাই, আমি এর আগে উনার বই পড়েছি মোটে দেড়টা । ১টা সম্পূর্ন আরেকটা অর্ধেক। প্রথম যে বইটা পড়েছিলাম সেটার নাম মনে নেই। তবে মনে আছে, কাহিনীর কোন শেষ ছিল না । বলাই বাহুল্য, যেকোন লেখকের প্রথম যে বইটা পড়বেন সেই বইটাই লেখকের লেখনি সম্পর্কে আপনাকে একটা ধারনা দিয়ে দিবে । (ধারনা ভুল ও হতে পারে) … এরপরে যেটা পড়েছিলাম সেটা আসলে পড়ে শেষই করতে পারিনি সেই একই ধারণা থেকে । ধুর!!! কাহিনীর তো কোন শেষ নেই । কেন জানি ধারণা হয়ে গেছিলো, লিখতে লিখতে কলমের কালি শেষ হয়ে গেলে মনে হয় উনি ওই বই আর লিখতেন না । প্রকাশককে দিয়ে দিতেন, প্রকাশকও জনপ্রিয় লেখক ভেবে ছাপিয়ে দিতেন।

এবার অনেক রিকমেন্ডেশন নিয়ে (পড়ুন ১টা) পড়তে শুরু করলাম হিমুর মধ্যদুপুর… … … … … … পড়া শেষে এবারের অভিজ্ঞতা আরো খারাপ।

সাইকোলোজির এমন নিদারুন ব্যবহার মনে হয় এর আগে দেখিনি । আমাদের মন সবসময়েই এমন কিছু শুনতে চায় বা পড়তে চায় যেটা আমরা আগে কখনও দেখিনি বা করিনি, যা আমাদের অবচেতন মন করতে চায় কিন্তু আমরা আসলে করতে পারিনা সমাজের কারনে । হিমু ক্যারেক্টারটিকে এমন ভাবেই লেখক সৃষ্টি করেছেন যেন সে সবসময়েই গতানুগতিক ধারার বাইরে সমাজের রক্তচক্ষু এড়িয়ে কিছু করতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই তরুন সমাজ তাদের সেই সকল পাগলামি করতে না পারার আক্ষেপ পূরন করছে হিমুর বইগুলোর মাধ্যমে । আর, পাগলামি করানো হচ্ছে মহাপুরুষ নাম দিয়ে… এতো যেন তরুনদের সাইকোলোজি বুঝে বই বিক্রি করার পাঁয়তারা। তাদেরকে পাগলে পরিনত করার প্রচেষ্টা!! … … … … এইটা ছিল বইটির ১০ পেজ পড়ার পর আমার অনুভূতি তথা রিভিউ ।

আসলে আমার মনের ভিতরে যে হিমু স্থান করে নিচ্ছে সেটা আমি মেনে নিতে পারছিলাম না । দেশের ভিতরে ফরেন ইনভেশন কেই বা সহ্য করতে পারে বলুন ? … যতই পড়ছিলাম ততই মুগ্ধ হচ্ছিলাম, আর ভাবছিলাম “হিমু হতে পারলে কিন্তু মন্দ হয় না ;)” এত সাবলীল কথোপকথন বারবারই নিজের মনে নিজেকে প্রশ্ন করতে বাধ্য করছিল … “কেন এতদিন পড়িনি?”
গল্পের প্রতিটি চরিত্র একদম জ্যান্ত মনে হচ্ছিল , যেন চোখের সামনে তারা কথা বলছেন কিংবা ঝগড়া করছেন।

হিমু সম্পর্কে কিছু বলার নাই… সেতো মহাপুরুষ ।। মহাপুরুষ দের সম্পর্কে কথা বলার মত নির্বোধ আমি নই। বাকি থাকলো , মাজেদা খালা , পল্টু সাহেব, রানু এবং বাদল । মাজেদা খালার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল পল্টু সাহেবের সাথে কিন্তু পল্টু সাহেবের কক কক করার কারনে সেই বিয়ে আর হয়ে উঠেনি। মানে, অনেক টাকা পয়সা থাকা সত্ত্বেও বিয়ে না করেই কাটিয়ে দিয়েছেন পল্টু সাহেব । একমাত্র বাতিক বই পড়া। (কি আশ্চর্য!!! কক কক করা কেন যেন আর বাতিক মনে হচ্ছে না ! :3 :3 ভদ্রলোকের দুইটা কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে । মাজেদা খালা প্রথমে হিমুকে কিডনি দেওয়ার জন্য রাজি করালেও হিমুর বিটলামিতে সেটা আর হয়ে উঠেনি । পরে তিনি কিডনি দিতে রাজি করান রানুকে।সংক্ষেপে ঘটনাটা এটাই। অথচ, পুরো বইয়ে একবারের জন্যও হাসি থামাতে পারিনি … এমন হয়েছে, হাসি বন্ধ করে দিয়েছি কিন্তু হাসির রেশ শেষ হচ্ছে না । নাটক হিসেবে এই কাহিনী দেখবার লোভও সামলাতে পারছি না, আশা করি কোন পরিচালক কোন সময় নাটক বানাবেন এই কাহিনী থেকে । :3

বই পড়া সার্থক । সার্থক লেখক হুমায়ুন আহমেদ। 
এবার অনেক রিকমেন্ডেশন নিয়ে (পড়ুন ১টা) পড়ে শেষ করলাম হিমুর মধ্যদুপুর… … … … … … পড়া শেষে এবারের অভিজ্ঞতা সত্যিই ভালো… অনেক ভালো … ধন্যবাদ রিকমেন্ডার !

Read More: Top 5 Freelancing Skills to Learn for Beginners

For Bengali Book Review Please Visit: Boier Feriwala

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x