তৃতীয় নয়ন + তান্ত্রিকের মূর্তি + কেবিন নাম্বার ৩০৫ - রোকসানা, শরিফুল ও শাওন
Skip to content
Shahriar Alam Rakib Blogs Feature Image
Home » তৃতীয় নয়ন + তান্ত্রিকের মূর্তি + কেবিন নাম্বার ৩০৫ – রোকসানা, শরিফুল ও শাওন

তৃতীয় নয়ন + তান্ত্রিকের মূর্তি + কেবিন নাম্বার ৩০৫ – রোকসানা, শরিফুল ও শাওন

|| রিভিউ ||
বই – তৃতীয় নয়ন + তান্ত্রিকের মূর্তি + কেবিন নাম্বার ৩০৫ (হরর ভলিউম)
লেখক – রোকসানা নাজনীন, শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া ও রিয়াজুল আলম শাওন
ঘরানা – হরর
প্রকাশক – সেবা প্রকাশনী
প্রকাশকাল – ২০১৫
প্রচ্ছদ – ভিক্টর নীল
পৃষ্ঠা – ৩০৪
মূল্য – ১০৮ টাকা (৮৫ টাকায় কিনেছি)

হরর কাহিনি পড়তে বরাবরই আমার ভালো লাগে। স্কুল ও কলেজ জীবনে অনীশ দাস অপুর নতুন হরর সংকলন বের হলেই ঝড়ের বেগে বাগিয়ে আনতাম। তারপর পাঠ্যবইয়ের ভেতরে লুকিয়ে রাত জেগে পড়া আর ক্ষণে ক্ষণে শিহরিত হওয়ার পালা চলতো। এভাবে পড়তে গিয়ে মা বেশ কয়েকটা বই বাজেয়াপ্তও করেছেন।

বয়স বাড়লেও হরর কাহিনির প্রতি টান এতোটুকুও কমেনি, বরং বেড়েছে। আর মানসম্মত হরর কাহিনির কথা যদি আসে, তাহলে বলবো, সেবা’র হরর বইগুলোর দুই মলাটের মধ্যেই তা পাওয়া যায়। রহস্য পত্রিকায় প্রতিমাসে স্থান পাওয়া বিভিন্ন লেখকদের হরর গল্পগুলো ছাড়া সেভাবে আয়োজন করে হরর কাহিনি পড়া হচ্ছিলোনা অনেকদিন। তাই যখনই জানতে পারলাম তৃতীয় নয়ন + তান্ত্রিকের মূর্তি + কেবিন নাম্বার ৩০৫ ভলিউমটা প্রকাশ হয়েছে দেরি করিনি। এই ভলিউমে স্থান পেয়েছে তিনজন লেখকের হরর কাহিনি। সেগুলো সম্পর্কে একটু আলাপ করছি।

তৃতীয় নয়ন – রোকসানা নাজনীন (১৯৯৩ সাল) : বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ও জনপ্রিয় লেখক জাহিদ হাসানের মাথার ভেতরে যেন বাসা বেঁধেছে অসংখ্য চড়ুই পাখি। ক্ষণে ক্ষণেই ওদের কলকাকলিতে বিচলিত হন জাহিদ সাহেব। এদিকে খুন হলেন তাঁর সুহৃদ শরীফ খান। কেউ একজন নৃশংসভাবে হত্যা করেছে তাকে। শুধু শরীফ খানই না, একে একে খুন হতে লাগলো আরো কিছু মানুষ যারা জাহিদ হাসানকে নিয়ে করা পত্রিকার একটা ফিচারের সাথে সম্পর্কযুক্ত ছিলো। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, প্রত্যেকটা ক্রাইম স্পটে পাওয়া গেলো জাহিদ সাহেবের আঙ্গুলের ছাপ। এখন কিভাবে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করবেন তিনি, সেটাই দেখার বিষয়। কবর থেকে উঠে আসা এক দানবের জিঘাংসা থেকে নিজেকে ও চারপাশের মানুষদেরকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে মাঠে নামলেন জাহিদ সাহেব।

তান্ত্রিকের মূর্তি – শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (১৯৯৫ সাল) : ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের সাতটা ছোটবড় গল্প নিয়ে সাজানো হয়েছে এই সংকলন। গল্পগুলো হলো চূড়ান্ত পর্ব, দূরের পাহাড়, ১৩ নম্বর কামরা, লাল কুঠুরি, স্বয়ম্ভু, পিশাচী ও তান্ত্রিকের মূর্তি। প্রতিটা গল্পই আকর্ষন ধরে রাখার মতো। ব্যতিক্রম হিসেবে বলা যায়, গল্পগুলোতে ভয়ের সাথে সাথে রহস্যেরও মিশ্রন ঘটানোর চেষ্টা করেছেন লেখক। এই সংকলনে আমার সবচেয়ে ভালো লাগা গল্প হলো পিশাচী ও দূরের পাহাড়।

কেবিন নাম্বার ৩০৫ – রিয়াজুল আলম শাওন (২০১৫ সাল) : রহস্য পত্রিকার এ সময়ের জনপ্রিয় হরর কাহিনি লেখক রিয়াজুল আলম শাওনেরও সাতটা হরর কাহিনি স্থান পেয়েছে এতে। গল্পগুলো গা শিউড়ে ওঠার মতোই। গভীর রাতে পড়ে ভয় পেতে চাইলে একবার পরীক্ষা করে দেখা যায়। শিগব, সন্দেহ, লাল বৃত্তে বন্দি, দূষিত রক্ত, ওরা ভয়ঙ্কর, অন্য জগতের কেউ ও কেবিন নাম্বার ৩০৫ এই সাতটা গল্পের স্বাদ সাতরকম। এগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটা আগেই রহস্য পত্রিকায় পড়েছিলাম। সংকলনে পেয়ে আবারো ঝালিয়ে নিলাম বেশ আনন্দের সাথেই। খুব ভালো লেগেছে শিগব, সন্দেহ ও দূষিত রক্ত। কেবিন নাম্বার ৩০৫ গল্পটা রহস্য পত্রিকায় পড়ার সময়েও তেমন ভালো লাগেনি, দ্বিতীয়বার পড়েও লাগলোনা। যাই হোক, রিয়াজুল আলম শাওন সাহেবের জন্য শুভকামনা রইলো।
হরর ভলিউম হিসেবে বইটা আদর্শ। দুই মলাটের মধ্যে একটা পূর্ণাঙ্গ হরর উপন্যাস ও চৌদ্দটা গা ছমছমে গল্প যেকোন হরর পাঠকের কাছেই এক রেকাবি রাজভোগের সমান।

তৃতীয় নয়ন উপন্যাসটা স্টিফেন কিংয়ের ‘The Dark Half’ বইটার সহজ সাবলীল এডাপ্টেশান। পড়তে গিয়ে একবারও হোঁচট খাইনি কোথাও। শেষপর্যন্ত মনোযোগ আটকে ছিলো কাহিনির সাথে। শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া ও রিয়াজুল আলম শাওনের গল্পগুলোও খুব উপভোগ করেছি। ভালো লেগেছে ভিক্টর নীলের করা প্রচ্ছদ।

একটা কথা বলেই ফেলি। ইদানীং বেরোনো সেবা’র বইগুলোর বাঁধাই দেখলে মন খারাপ হয়ে যাচ্ছে। পড়া শুরু করার পর ফর্মা ঢিলা হয়ে উঁকিঝুঁকি মারছে। এর কারন সেলাইয়ের দুর্বলতা। সেবা’র সাথে সংশ্লিষ্টদের ব্যাপারটা ভেবে দেখার অনুরোধ জানাচ্ছি।
সবশেষে বলি, বইটা কেউ না পড়ে থাকলে পড়ে ফেলুন।

আমার রেটিং –
তৃতীয় নয়ন : ৮/১০
তান্ত্রিকের মূর্তি : ৭/১০
কেবিন নাম্বার ৩০৫ : ৭/১০

Read More: Top 5 Freelancing Skills to Learn for Beginners

For Bengali Book Review Please Visit: Boier Feriwala

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x