তিন গোয়েন্দা রিভিউ | Tin Goyenda
Skip to content
Shahriar Alam Rakib Blogs Feature Image
Home » তিন গোয়েন্দা রিভিউ | Tin Goyenda

তিন গোয়েন্দা রিভিউ | Tin Goyenda

:::রিভিউ:::
তিন গোয়েন্দা (ভ. ১৩২)
রহস্যভেদী
শামসুদ্দীন নওয়াব

সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে তিন গোয়েন্দা সিরিজের ১৩২তম ভলিউম, যাতে রয়েছে তিনটি কাহিনি… আমি ভূত, মহাকাশের ভয়ঙ্কর ও রহস্যভেদী। এর মধ্যে প্রথম দুটি কাহিনি হরর ও সায়েন্স ফিকশনধর্মী হওয়ায় পুরনো তিগো পাঠকরা হয়তো আগ্রহ পাবেন না, কিন্তু অন্তত তৃতীয়টির জন্য হলেও এ-বই তাঁদের পড়া উচিত। কারণ রহস্যভেদী উপন্যাসটি লেখা হয়েছে তিন গোয়েন্দার মূল উৎস দ্য থ্রি ইনভেস্টিগেটরস এর জার্মান সিরিজের একটি বই Tödliches Eis (ইংরেজি সংস্করণ Arctic Adventure) অবলম্বনে। মূলত বহুদিন পর থ্রি ইনভেস্টিগেটরস বই তিন গোয়েন্দায় এসেছে বলে সেটি সম্পর্কে পাঠকদের সচেতন করে তোলার জন্য এই রিভিউ লিখতে বসলাম, নইলে অন্যান্য বইয়ের ভিড়ে এটি হারিয়ে যাবে… পাঠকরা হয়তো জানতেই পারবেন না।

কাহিনি:
শুরু হতে চলেছে নরডিক ওয়াইল্ডারনেস রেস নামে একটি স্লেড-ডগ প্রতিযোগিতা। বিরূপ আবহাওয়া ও প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে, কয়েকশ মাইল পাড়ি দিয়ে, প্রতিযোগীদেরকে তাদের কুকুর-টানা স্লেড নিয়ে কানাডার ডওসন থেকে আলাস্কার ফেয়ারব্যাঙ্কস শহরে পৌঁছুতে হবে। যে জিতবে, তার জন্য রয়েছে বিশাল অঙ্কের পুরস্কার। পরিচিত এক মহিলা রিপোর্টার মিস অ্যানিটা রোযারিয়োর সহকারী হিসেবে প্রতিযোগিতা কাভার করবার জন্য ডওসনে পৌঁছুল তিন গোয়েন্দা। ওখানে পৌঁছেই জানল, স্যাবোটাজের শিকার হচ্ছে প্রতিযোগীরা – কুকুরকে বিষ খাওয়ানো হচ্ছে, স্লেড ভেঙে দেয়া হচ্ছে, ইত্যাদি। এ ছাড়া আরেকটা ঘটনা ঘটেছে ডওসনে।

স্থানীয় মিউজিয়ামের ডিসপ্লে থেকে চুরি হয়ে গেছে গোল্ড রাশ আমলের সোনার নাগেট এবং বিখ্যাত লেখক জ্যাক লণ্ডনের সুভেনিয়ার ব্যাগ। কিন্তু এই চুরির পর পরই ভয়ঙ্কর এক তুষার ঝড়ে বন্ধ হয়ে গেছে রাস্তাঘাট, ফলে চোরাই মাল পাচার করা সম্ভব হয়নি চোরের পক্ষে – অন্তত পুলিশের তা-ই বিশ্বাস। দু’য়ে দু’য়ে চার মেলাল তিন গোয়েন্দা, অনুমান করল, চোরাই মাল শহর থেকে বের করে নিয়ে যাবার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো এই স্লেড-ডগ রেস। তদন্তে নেমে পড়ল ওরা। রেস শুরু হলো, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে শুরু করল বিপদ। নানা দুর্ঘটনায় একে একে ঝরে পড়ছে প্রতিযোগীরা, কয়েক দফা মরবার দশা হলো কিশোর-মুসা-রবিনেরও। শেষ পর্যন্ত কী হলো, তা জানার জন্য পুরো বই পড়তে হবে পাঠককে।

প্রতিক্রিয়া:
এক কথায় বলা যায়, বইটা পড়ে পুরনো তিন গোয়েন্দার স্বাদ পাবেন পাঠক, এতে কোনও সন্দেহ নেই। কিশোরের তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা, মুসার প্রাণচঞ্চল হাসিঠাট্টা, রবিনের গাম্ভীর্য… সবকিছু আছে পুরো মাত্রায়। বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে আছে পুরনো একটি বইয়ের প্রতি ট্রিবিউট – ছায়াশ্বাপদে বিশেষ একটি ক্রিম বানিয়েছিল কিশোর, যেটা হাতে লাগলে কালো দাগ পড়ে যায়, হাজার চেষ্টাতেও মোছে না… এই বইয়ে সেই ক্রিম আবার ব্যবহার করেছে তিন গোয়েন্দা। কাহিনির মানের দিক থেকে রহস্যভেদী হয়তো একেবারে সেরা দশ-বিশটার মধ্যে আসবে না, তবে একেবারে ফেলনাও বলা যাবে না এটিকে। তবে কেউ রকিব হাসানকে মাথায় রেখে পড়তে শুরু করলে মৃদু ধাক্কা খেতে পারেন, কারণ শামসুদ্দীন নওয়াবের ভাষা একটু ভিন্ন ধরনের – রকিব ভাইয়ের মত নয়। তাই বলে একে কঠিন বলছি না আমি, ভাষা অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও কিশোরোপযোগী, পড়তে বেশ ভাল লাগে… কিন্তু রকিব হাসানের চেয়ে আলাদা।

একেক লেখকের লেখার ভঙ্গি একেক রকম, এটুকু মেনে নিয়ে পড়লেই বইটা ঠিকমত উপভোগ করতে পারবেন পাঠক। সবমিলিয়ে এই বই তিন গোয়েন্দা সিরিজে একটি বেশ ভাল এণ্ট্রি, সবাইকে পড়বার জন্য উৎসাহিত করব।
আমার রেটিং – ৪/৫।

Read More: Top 5 Freelancing Skills to Learn for Beginners

For Bengali Book Review Please Visit: Boier Feriwala

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x