আর্তনাদ + মরণনেশা + বিষ (রহস্য উপন্যাস ভলিউম) - কাজী আনোয়ার হোসেন
Skip to content
Shahriar Alam Rakib Blogs Feature Image
Home » আর্তনাদ + মরণনেশা + বিষ (রহস্য উপন্যাস ভলিউম) – কাজী আনোয়ার হোসেন

আর্তনাদ + মরণনেশা + বিষ (রহস্য উপন্যাস ভলিউম) – কাজী আনোয়ার হোসেন

|| রিভিউ ||
বই – আর্তনাদ + মরণনেশা + বিষ (রহস্য উপন্যাস ভলিউম)
লেখক – কাজী আনোয়ার হোসেন
ঘরানা – মিস্ট্রি/থ্রিলার
প্রকাশক – সেবা প্রকাশনী
প্রকাশকাল – ২০১৫
প্রচ্ছদ – ভিক্টর নীল
পৃষ্ঠা – ৩৬৮
মূল্য – ১২৫ টাকা (কিনেছি ১০০ টাকায়)

বাংলা রহস্য সাহিত্যে কাজী আনোয়ার হোসেনের নাম একেবারে প্রথম কাতারেই আসবে। নন্দিত এই লেখক ও প্রকাশকের হাত ধরেই উঠে এসেছে অসাধারণ অনেক রহস্য-রোমাঞ্চ কাহিনি। পাঠকনন্দিত এসব সৃষ্টি বছরের পর বছর ধরে মেটাচ্ছে রহস্যপ্রিয় পাঠকদের তৃষ্ণা। সেবা প্রকাশনীর যাত্রাকাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত এসব রহস্য উপন্যাসের আবেদন একইরকম আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে।

কিছুদিন আগে সেবা থেকে কাজীদা’র এসব পাঠকপ্রিয় রহস্য উপন্যাসগুলোকে ভলিউম আকারে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। নিঃসন্দেহে, সেটা অসাধারণ একটা সিদ্ধান্ত ছিলো। একে একে এ পর্যন্ত চারটা রহস্য কাহিনি ভলিউম বের হয়ে গেছে। আর্তনাদ + মরণনেশা + বিষ বইটা এই ধারাবাহিকতায় তৃতীয় ভলিউম। কাহিনিগুলো প্রথম প্রকাশের অনেকদিন পর দুই মলাটে ভলিউম আকারে বেরোলো। একটু দেরিতে হলেও সংগ্রহ করে পড়ে ফেললাম ভলিউমটা। এবার একটু উপন্যাসগুলোর কাহিনিসংক্ষেপে চোখ রাখা যাক।
আর্তনাদ (১৯৬৯ সাল) : নিজের অজান্তেই প্রাণপ্রিয় নাতনীর গোপন প্রেমিক খসরুকে খুন করে ফেললেন রিটায়ার্ড জজ আকবর সাহেব। ন্যায়পরায়ণ মানুষটা জানেনওনা এর জন্য কি সইতে হবে তাঁর পরিবারকে। তাঁর মেয়ে আফসানা বিলকিস কৌশলে সরিয়ে ফেললেন খসরুর লাশ। এদিকে খশরুকে লেখা সোহানার বেশ কিছু চিঠিকে সম্বল করে আফসানা বিলকিসকে ব্ল্যাকমেইল করে চলেছে সুযোগসন্ধানী তৈমুর বিল্লাহ। আপাত দৃষ্টিতে ভদ্রলোক ও সংবেদনশীল মোহসীন কবীর আসলে কি চায়? খুনের গন্ধ পেয়ে এদিকে হাজির হয়ে গেলো পুলিশ ইন্সপেক্টর হায়দার আলী। আফসানা বিলকিস এসব নিয়ে গভীর সাগরে পড়লেন।

মরণনেশা (১৯৭৭ সাল) : লুকিয়ে প্রেয়সী শুভ্রার সাথে দেখা করতে গিয়ে বিপদে পড়লো আহাদ। পুলিশের সন্দেহের জালে জড়িয়ে পড়লো সে। কারন? খুন! শুভ্রার বান্ধবীর এপার্টমেন্টে, যেখানে ওদের দেখা করার কথা ছিলো, সেখানেই পাওয়া গেলো তার লাশ। সেই সাথে পাওয়া গেলো আহাদকেও। একেবারে ঘটনাস্থলেই। সি.আই.ডি অফিসার সিরাজীর চটুল জেরার আঘাতে নাস্তানাবুদ হতে লাগলো আহাদ। এখন কে বাঁচাবে তাকে? কিভাবে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করবে সে?

বিষ (১৯৮২ সাল) : পাইলট নিয়াজ ইকবাল, তালার জাদুকর জেফ প্যাটারসন ও শিকারী হ্যারি হফম্যান – তিনজন জেলখাটা লোক। এই তিনজনকে একটা কাজের জন্য নিয়োগ দিলো ইসাক নিউবেল। কাজটা অনেকটা বাঘের গুহা থেকে মজ্জা চুরি করে আনার শামিল। বিষাক্ত একটা বর্জিয়া আংটি চুরি করে আনতে হবে অর্থপিশাচ ও ম্যানিয়াক ইয়েন হেন্ডেনবার্গের দুর্গ থেকে। আংটিটা ব্যবহৃত হতো কাউকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করার কাজে। এর ঐতিহাসিক মূল্যও আকাশছোঁয়া। মোটা পারিশ্রমিকের ভরসায় নিয়াজ, জেফ ও হ্যারি ছুটলো আফ্রিকার নেটালের শ্বাপদসঙ্কুল বন অভিমুখে। তাদের সঙ্গী হলো ইসাকের বিশেষ প্রতিনিধি শ্যারন গেট। পদে পদে বিপদ আর অনিশ্চয়তা নিয়ে এগিয়ে চললো অভিযাত্রীদল। শেষপর্যন্ত সফল হতে পারবেতো ওরা?

আর্তনাদ + মরণনেশা + বিষ বইটা কেনার পর প্রায় একটানা পড়ে গেছি পরপর তিনটা কাহিনি। এই বইয়ে আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে বিষ উপন্যাসটা। আদর্শ থ্রিলার বলতে যা বোঝায়, এটা তাই। আর্তনাদ উলন্যাসটাও মোটামুটি লেগেছে। বিরক্ত হয়েছি এর ক্লাইম্যাক্সের দিকটা পড়ে। সেখানে নিখাদ রহস্যের সমাধানের চেয়ে আবেগের আতিশয্যজনিত ব্যাপারস্যাপারই বেশি ছিলো। ভালো লেগেছে মরণনেশা উপন্যাসটা। তন্ময়তা নিয়ে একটানা পড়ে তারপর শেষ করেছি এটা। শেষটা জবরদস্ত লেগেছে। রহস্যপ্রেমী পাঠক, যারা এখনো বইটা পড়েননি, পড়ে ফেলুন। ভালো লাগবে।
আমার রেটিং –
আর্তনাদ : ৭/১০
মরণনেশা : ৮/১০
বিষ : ৯/১০

Read More: Top 5 Freelancing Skills to Learn for Beginners

For Bengali Book Review Please Visit: Boier Feriwala

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x