অন্যভূবন - হুমায়ুন আহমেদ
Skip to content
Shahriar Alam Rakib Blogs Feature Image
Home » অন্যভূবন – হুমায়ুন আহমেদ

অন্যভূবন – হুমায়ুন আহমেদ

রিভিউ
অন্যভূবন – হুমায়ুন আহমেদ

গল্পাংশঃ এক দুপুরে মিসির আলির নতুন কাজের মেয়েটি তাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে বলে এক লোক এসেছে দেখা করতে। মিসির আলির বিরক্তির সীমা থাকে না কারণ, মেয়েটিকে বলা আছে এই সময় যে-ই আসুক, যেন তাকে জাগানো না হয়। যাইহোক, ঘড়ি না-চেনা মেয়েটির উপর রাগ হজম করে মিসির আলি বেরিয়ে আসেন। বেশ দাম্ভিক প্রকৃতির এক ভদ্রলোক বসে আছেন। প্রথম আলাপচারিতায় লোকটির দাম্ভিকতার প্রকাশ মিললেও এক পর্যায়ে কাতর হয়ে লোকটি তার সমস্যার কথা বলতে শুরু করল।

লোকটির নাম বরকতুল্লাহ। অঢেল সম্পদের মালিক। তার একমাত্র মেয়ে তিন্নি স্বাভাবিক বয়স পেরিয়ে গেলেও কথা বলতে পারে না। ডাক্তাররা কেউ কিছু করতে পারেনি। সবাই ধরেই নিয়েছিল যে তিন্নি জন্মগতভাবে বোবা। কিন্তু একদিন একটা আশ্চর্য কাণ্ড হল। বরকত সাহেব অবেলায় শুয়ে পড়েছিলেন। এরপর স্পষ্ট শুনলেন তিন্নি পরিস্কার গলায় বলছে “অসময়ে ঘুমাচ্ছ কেন বাবা”?
তখন তার বয়স ছয় বছর। এই ছয় বছরে ঐ প্রথম তিন্নি কথা বলল। শুধু তাই নয়, তিন্নির মাঝে আরও কিছু অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে লাগল। যেমন সে অন্ধকারে সব স্পষ্ট দেখে।

মিসির আলি এই ব্যাপারটায় বেশ আগ্রহবোধ করলেন এবং কোনো কিছু না ভেবেই কেসটা হাতে নিলেন। তিনি পারবেন তিন্নির রহস্য উদঘাটন করতে?

প্রথমেই গল্পের নামকরণ নিয়ে একটু বলি।
অন্যভূবন নামটি বইটির সাথে যথাযথই সার্থক। বিশেষ করে বইটির এক পর্যায়ে মিসির আলি গাছ এবং মানুষ নিয়ে একটি চিন্তাশীল থিওরি দাড় করায়, তার প্রেক্ষাপটে নামটি তাত্‍পর্যবহুল। তবে আমার ক্ষীণ ধারনা হয়েছে যে এই গল্পের তুলনায় তার ঠিক আগের বই “নিষাদ” এর ক্ষেত্রে এই নামটা আরও বেশি যথাযথ ছিল। যাইহোক, দুটা আলাদা বই, তাই আপাতত এটা নিয়েই কথা বলি।

বইটা শুরু হয় খুবই ইন্টারেস্টিং ভাবে। একটা বাচ্চা মেয়ে জন্মের পর থেকে ছ’বছর চুপ করে থাকে। ছ’বছর পর হঠাত্‍ কথা বলা শুরু করে। জিজ্ঞেস করলে বলে সে আসলে কথা জানত। কিন্তু ইচ্ছে করেনি তাই বলেনি। একটা ছোট বাচ্চা জন্মের পর থেকে ছ’বছর অবধি মৌনব্রত ধরে বসে থাকবে এটা অস্বাভাবিক তো বটেই। তাই পাঠকদের কৌতুহল প্রথম থেকেই তুঙ্গে থাকবে।

মিসির আলির সাথে তিন্নির প্রথম দীর্ঘ আলাপচারিতায়ই পাঠকদের কাছে তিন্নির চরিত্রটি যে অস্বাভাবিক তা প্রকাশ পাবে। মিসির আলি দড়জায় দাড়িয়ে তাকে বলে, “আসব”?
সে বলে, “আসতে ইচ্ছা হলে আসুন”।
“বসব”?
“বসতে ইচ্ছা হলে বসুন”।
“দেখব”?
“দেখতে ইচ্ছা হলে দেখুন”।
সাধারনত অনুমতি দানের ক্ষেত্রে কেউ এভাবে কথা বলে না। তবে মেয়েটির মধ্যে হাজার অস্বাভাবিকতা থাকলেও পাঠকদের মনে মেয়েটির প্রতি এক অন্যরকম মমতা কাজ করবে। মেয়েটির প্রতিটা কথাবার্তা খুব কিউট। পাঠকদের কল্পনায় আপনা আপনি একটা কিউট ছোট্ট বাচ্চা মেয়ের চেহারা ফুটে উঠবে।

তিন্নির বাসায় বেশ ক’জন কাজের লোক আছে, যারা তাকে খুব ভয় পায়। কারণ তিন্নি রেগে গেলে সবাইকে কষ্ট দেয়। কিভাবে কষ্ট দেয় সেটা পাঠকদের বিস্ময়ের একটা কারণ হতে পারে।

ড. জাবেদের বাসায় মিসির আলির গমন এবং লোকটিকে অপ্রস্তুত করে দেয়ার ব্যাপারটি গল্পের গমগমে আবহাওয়াকে সামান্য রিফ্রেশমেন্ট প্রদান করবে। রসায়নের উপর চিন্তাশীল কিছু আলোচনা কিছু কিছু পাঠককে আনন্দ দিবে আবার কিছু কিছু পাঠকদের মাথার উপর দিয়ে যাবে (যেমন আমি)।

যারা কথা কম বলেন তারা ভাবতে খুব পছন্দ করেন। আর যারা ভাবতে পছন্দ করেন তাদের চাই ভাবনার বিষয়। আমি বলব বইটা তাদের অবশ্যই পড়া উচিত। এটা শুধুমাত্র পাঠকদের মজা দেয়ার জন্য কাল্পনিক একটা গল্প, তা না। যারা রসায়ন বুঝেন, তারা গল্পটাকে একভাবে ভাবতে পারেন। আবার যারা বুঝেন না, তাদেরও ভাবনার বিষয় আছে।

গাছ কি? তারা একটা প্রাণী সেটা সবাই জানি। কিন্তু তারা কি ভাবে? কি দেখে? কি বুঝে? তাদের কথা বলার শক্তি নাই, চলাচলেরও শক্তি নাই। তাহলে তারা কি করে? বইটা পড়লে এসব প্রশ্ন পাঠকদেরকে অনেক দিন পর্যন্ত ভাবাবে।

গল্পের ক্লাইম্যাক্সটা ব্যক্তিগতভাবে আমার মোটেও ভালো লাগেনি। ব্যাপারটা আমি তুলনা করব একটা এসির সাথে। যারা এসি রুমে ঘুমান তারা ভালো বুঝবেন। এসির কম্প্রেশার মেশিনটা চলতে চলতে এক পর্যায়ে খুব জোড়ে জোড়ে শব্দ করতে থাকে। শব্দটা যখন প্রায় কানে সয়ে আসে তখনই কম্প্রেশারটা ধুপ করে বন্ধ হয়ে যায়। হঠাত্‍ গো গো শব্দটি বন্ধ হয়ে গেলে মনে হয় কি যেন সরে গেল।

এই গল্পটাও তাই। গল্পের উত্তেজনা যখন চরম পর্যায়ে তখন মনে হল হঠাত্‍ করে হু.স্যার এক ধাক্কায় সব কিছু ঝেরে ফেলে দিলেন। “যা বাবা বহুত হইছে! এখন All delete”.
ক্লাইম্যাক্সটা অন্যভাবে দিলেও দিতে পারতেন।

সবশেষে বলতে চাই গল্পটা যারা পড়েননি তারা পড়তে পারেন তবে ক্লাইম্যাক্সে সভাবতই আপনারা বড় কিছু আশা করবেন। যাইহোক, আশা করে যান। আশাই তো জীবন। হাহাহা। তবে…… থাক আর বললাম না। ক্লাইম্যাক্স আমার কাছে ভালো লাগেনি বলে কারো লাগবে না তা তো নয়।

আকিব খান অভীর

Read More: Top 5 Freelancing Skills to Learn for Beginners

For Bengali Book Review Please Visit: Boier Feriwala

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x